এই লেখা কপি করা সুরক্ষিত।

Ad Code

ম্যাটস নিয়ে ডাঃ মোঃ মাহ্ফুজ্জামান দীপের মতামত

সূচীপত্র

    ম্যাটস (MATS) নিয়ে একজন এমবিবিএস ডাক্তারের মতামত

    ডাঃ মোঃ মাহ্ফুজ্জামান দীপ

    ডাঃ মোঃ মাহ্ফুজ্জামান দীপ

    বাংলাদেশ সরকার ইউনিয়ন পর্যায়ে অর্থাৎ গ্রাম-গঞ্জের জনসাধারণের প্রাইমারী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চাইলে এই মুহূর্তে এমবিবিএস ডাক্তারদের পাশাপাশি SACMO চিকিৎসকদের কোনো বিকল্প আছে বলে আমি মনে করি না। তারা নামের আগে ডাক্তার লিখতে পারবে না মাত্র, এরকম একটা প্রশ্নবিদ্ধ শব্দের আড়ালে বা সুযোগে স্বার্থবাদী নামধারী গ্রামের কোয়ার্ক/পল্লী চিকিৎসক/ ফার্মেসীওয়ালারা তাদের অল্পবিদ্যার ঝলক দেখিয়ে মানুষের জীবনের বারোটা বাজাচ্ছে!! এটাই চিরন্তন সত্য!

    প্রত্যেকটা উপজেলায় পর্যাপ্ত MBBS ডাক্তার এবং ৪৫৫০টি ইউনিয়নে কমপক্ষে ২ জন করে মোট ৯১০০ জন SACMO চিকিৎসককে সরকারীভাবে নিয়োগ দিয়ে কঠোরভাবে মনিটরিং করতে পারলে আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেক্টরের স্বাস্থ্যসেবার চেহারাই চেঞ্জ হয়ে যেতে পারে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

    আরেকটা কথা বলতে চাই যে, ফার্মের মুরগীকে যেমন তার নির্দিষ্ট বাসস্থান থেকে উন্মুক্ত জায়গায় রাখলে টিকতে পারে না, অর্থাৎ মারা যায়; ঠিক তেমনি শহরেই ছোটবেলা থেকে মানুষ হয়েছেন, জীবনেও গ্রামে যান নি, এরকম ডাক্তারদের কে হাজারো সুযোগ-সুবিধা দিলেও তারা উপজেলা লেভেলে থাকতে চাইবে না। আর থাকার চেষ্টা করলেও বাস্তবতার কারণে বেশি দিন টিকতে পারবে না (দু-একজন ব্যতিক্রম থাকতে পারে)। ফলে তারা মামা-খালু কিংবা টাকার জোরে তদবির করে শহরে চলে আসার আপ্রাণ চেষ্টা করে।

    ফলে যে লাউ সেই কদুই থাকে! আবারও কিছুদিন পর উপজেলায় চিকিৎসক শূণ্যতা দেখা দেয়। তাই সরকারকে অনুরোধ করব যে, প্লিজ নিয়োগকৃত ডাক্তারদের 50% যেনো গ্রাম থেকে হয়। অর্থাৎ যারা ছোটবেলা থেকেই গ্রামীণ পরিবেশে মানুষ হয়েছে। তাহলে ইনশাল্লাহ্ উপজেলায় ডাক্তাররা থাকবেন। অন্যথায় যতোই চেষ্টা করেন লাভ হবে বলে আমার বিশ্বাস হয় না।

    বাংলাদেশের গ্রাম পর্যায়ে দারিদ্র লোকের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। যাদের অধিকাংশের নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা, তারা কি সামান্য স্বর্দি-জ্বর, অ্যালার্জি কিংবা পরিশ্রম জনিত শারীরিক ব্যথার জন্য ৫-৮ ঘন্টা কর্ম ফেলে ২০০-৩০০ টাকা খরচ করে উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে কিংবা সদর হাসপাতালে আদৌ চিকিৎসা নিতে যাবে?

    আমার তো মনে হয় না, খুব একটা বাধ্য না হলে তারা কাজ-কর্ম ফেলে উপজেলায় চিকিৎসা নিতে যাবে!! তাই তারা বাস্তবতা ও স্বভাবতই নিকটবর্তী বাজারের তথাকথিত পল্লী চিকিৎসক—যারা ৩মাস/৬মাস কিংবা ১বছরের নামসর্বস্ব কোর্স করে ডাক্তার পদবী লাগিয়ে বসে আছে—তাদের কাছেই যাবে। এটাই স্বাভাবিক। কারণ নাই মামার চাইতে কানা মামা যে অনেক অনেক ভালো!! সুতরাং স্বাস্থ্য সেক্টরে অপচিকিৎসা চলতেই থাকবে যদি না সিস্টেম পরিবর্তন করা হয়।

    আমার জানা মতে, বাংলাদেশে মোট ইউনিয়ন আছে প্রায় ৪৫৫০ টি। আমার প্রশ্ন এই ৪৫৫০ টি ইউনিয়নে কি মাত্র একজন করেও এমবিবিএস ডাক্তার সর্বদাই থাকে??? যেখানে উপজেলা লেভেলেই এমবিবিএস ডাক্তারের প্রকট সংকট, সেখানে ইউনিয়ন পর্যায়ে এমবিবিএস ডাক্তার সার্বক্ষণিক থাকবে আশা করাটা কি বুদ্ধিমানের কাজ হবে?

    একজন এমবিবিএস ডাক্তারকে হাজারো সুযোগ-সুবিধা দিলেও তিনি কখনোই পারমেন্যান্টলি ইউনিয়ন পর্যায়ে থাকবেন না (ব্যতিক্রম থাকলে থাকতে পারে)। But একজন SACMO কে ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারীভাবে নিয়োগ দিয়ে কঠোর মনিটরিং এর ব্যবস্থা করলে স্বাস্থ্যসেক্টর যেমন এগিয়ে যাবে, তেমনি গ্রামের পল্লী চিকিৎসক কর্তৃক অপচিকিৎসা কমপক্ষে 50% কমে যাবে ইনশাল্লাহ্।

    কিছুক্ষণ পরেই পোস্টে শুরু হবে আবারও বাজে কমেন্ট। বাট এটাই বাস্তবতা। আমি ব্যক্তিগতভাবে ৫টি NGO তে চাকুরী করার সুবাদে গ্রামে-গঞ্জে গিয়ে দেখেছি, সেখানকার লোকগুলো চিকিৎসার নামে কতোটা অপচিকিৎসা পাচ্ছে। অথচ 1% এমবিবিএস ডাক্তারও গ্রামে-গঞ্জে যায় না। সর্বোচ্চ উপজেলা পর্যন্ত যাচ্ছেন তারা। তাহলে আমার প্রশ্ন, ইউনিয়ন পর্যায়ের হত দরিদ্র সাধারণ জনগণ কোথায় যাবে??? যাদের নাই টাকা! এমনকি নাই সময়, কারণ কাজ ফেলে শহরে গেলে তার ও পরিবারের লোকদের পেটে ভাত যাবে না। আমার মতে, এইসব লোকদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার জন্য সবচেয়ে সহজলভ্য মাধ্যম হতে পারে SACMO চিকিৎসকরা।

    তাই সরকারের কাছে আমার জোরালো দাবি, উপজেলা লেভেলে পর্যাপ্ত MBBS ডাক্তার নিয়োগ দিন। সেটা বিসিএস হোক কিংবা অন্যকোনো উপায়ে হোক। পাশাপাশি ৪৫৫০টি ইউনিয়নে কমপক্ষে ২জন করে মোট ৯১০০ জন SACMO নিয়োগ দিয়ে গ্রাম-গঞ্জের গরীব লোকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। এতে একদিকে গরীব লোকেরা চিকিৎসা সেবা পাবে, অন্যদিকে ৯১০০ জন বেকার হতাশাগ্রস্ত SACMO চিকিৎসক কর্মসংস্থান পাবে। অন্যথায় এই কোর্সটি ঘোষণা দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হোক।

    ব্যক্তিগত মতামত

    ডাঃ মোঃ মাহ্ফুজ্জামান দীপ

    এমবিবিএস, এফসিজিপি (ফ্যামিলি মেডিসিন),
    সিসিডি (ডায়াবেটিস), ডিএমইউ (আল্ট্রা)
    স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক,
    মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ড, কেন্দ্রীয় কমিটি।

    Post a Comment

    0 Comments

    Close Menu