এই লেখা কপি করা সুরক্ষিত।

Ad Code

ডিএম‌এফ চিকিৎসকদের প্রেসক্রাইব করার বৈধতা আছে কি? আইন কি বলে?

সূচীপত্র

    ডিএম‌এফ (DMF) কি এবং স্বাস্থ্যখাতে তাদের ভূমিকা

    "ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি" ডিপ্লোমাকে সংক্ষেপে ডিএম‌এফ (DMF) বলা হয়। বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের অধীনে (৪ বছর একাডেমিক + ৬ মাস ইন্টার্নশিপ সহ) সাড়ে ৪ বছর মেয়াদি এই মেডিকেল ডিপ্লোমা কোর্সে ১০টিরও অধিক মেডিকেল সাবজেক্ট পড়ানো হয়। তথ্যসূত্র

    কোর্সের অন্তর্ভুক্ত প্রধান বিষয়সমূহ

    1. মেডিকেল বেসিকস
    2. ক্লিনিক্যাল স্কিলস
    3. চিকিৎসা সেবা
    4. কমিউনিটি স্বাস্থ্য
    5. এপিডেমিওলজি
    6. পরিবার পরিকল্পনা
    7. সাধারণ সার্জারি
    8. নার্সিং ও মিডওয়াইফ স্কিলস
    9. প্রাথমিক চিকিৎসা
    10. স্বাস্থ্য শিক্ষা

    আইনি স্বীকৃতি ও সীমাবদ্ধতা

    বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০ অনুযায়ী, এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসায় নিবন্ধনযোগ্য একমাত্র মেডিকেল ডিপ্লোমা হলো ডি.এম‌.এফ। বিএমডিসি পঞ্চম তফসিলভুক্ত এই ডিপ্লোমাধারীরা কাউন্সিল থেকে "ডি ক্যাটাগরি" মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট পেশাদার হিসেবে রেজিস্ট্রেশন পেয়ে থাকেন।

    বিএমডিসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তাদের রেজিস্ট্রেশন সার্চ করলে এমবিবিএস, বিডিএস-দের ন্যায় তাদের রেজিস্ট্রেশনের বৈধতা যাচাই করা যায়। তথ্যসূত্র এই ডিপ্লোমাধারীরা উক্ত আইন অনুযায়ী ৭১ ধরনের মেডিসিন প্রেসক্রাইব করতে পারেন। তথ্যসূত্র এছাড়াও মেডিসিন, মাইনর সার্জারি এবং মিড‌ওয়াইফ পেশায় বৈধভাবে নিয়োজিত থাকতে পারেন। সরকারিভাবে তারা উপজেলা এবং ইউনিয়ন হেলথ কমপ্লেক্সে "উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার" পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তথ্যসূত্র

    ডিএম‌এফ কি প্রেসক্রাইব করতে পারে?

    হ্যাঁ, পারে। বিএমডিসির আইন অনুযায়ী ডিএম‌এফ কোর্স চালু হবার পর থেকেই, ১৯৮০ সাল থেকে তারা ৭৩ ধরনের মেডিসিন প্রেসক্রাইব করতে পারে। সেই সাথে মাইনর সার্জারি এবং মিড‌ওয়াইফ পেশা প্র্যাকটিস করার বৈধতাও তাদের দেওয়া হয়েছে, যা বিএমডিসি কর্তৃক প্রদত্ত সার্টিফিকেটে সহ বিএমডিসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা আছে। তথ্যসূত্র দেখুন

    স্বাস্থ্যখাতে ডিএমএফ চিকিৎসকদের ভূমিকা

    1. উন্নত রেফারেল সিস্টেম
    2. এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স প্রতিরোধ
    3. মানসম্মত উপযুক্ত প্রাথমিক চিকিৎসা
    4. স্বাস্থ্য শিক্ষা ও সচেতনতা
    5. প্রতিষেধক কার্যক্রম
    6. জরুরি চিকিৎসা প্রদান
    7. প্রসূতি সেবা প্রদান
    8. স্বাস্থ্যসম্মত জীবনধারা প্রচার
    9. স্বাস্থ্য তথ্য সংগ্রহ ও রিপোর্টিং
    10. স্বাস্থ্য কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা
    অপরদিকে, ৩ মাস, ৬ মাস, বা ১ বছর মেয়াদি বিভিন্ন ভুয়া কোর্সধারী অনেকেই চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন, যাদের কাছে রোগীরা গিয়ে অপচিকিৎসার শিকার হয়। তাদের পর্যাপ্ত রেফারেল জ্ঞান না থাকা এবং মেডিকেল জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে রোগীদের জীবন হুমকির মুখে পড়ে।

    মেডিকেল চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমাধারীদের বাদ রেখে এইচএসসি পাশ করা জেনারেল শিক্ষিতকে ৬ মাস মেয়াদি ট্রেনিং করিয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকে ঔষধ লেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক।

    Post a Comment

    0 Comments

    Close Menu