এই লেখা কপি করা সুরক্ষিত।

Ad Code

বিয়ের আগে ছেলে মেয়ে উভয়ের করনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা

সূচীপত্র

    💍 বিয়ের আগে করণীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা

    লেখক: শাহরিয়ার মাহমুদ কাব্য (KabboProBooks)

    বিয়ে শুধু সামাজিক সম্পর্ক নয়—এটি দুজন মানুষের জীবনের দীর্ঘ পথচলা। তাই জীবনের শুরুতেই দুজনের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে কিছু মৌলিক পরীক্ষা করিয়ে নিলে ভবিষ্যতের অনেক জটিলতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা এড়ানো যায়।

    1. হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস

      এই পরীক্ষা জানায় কেউ থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত বা বাহক কি না। যদি বর-কনে উভয়েই বাহক হন, তাদের সন্তানের থ্যালাসেমিয়া মেজর হওয়ার ঝুঁকি থাকে—যা জীবনব্যাপী রক্ত দিতে হয় এমন এক জটিল অবস্থা।

      ➡️ তাই বিয়ের আগে উভয়ের এই পরীক্ষা করানো জরুরি।

    2. রক্তের গ্রুপ ও আরএইচ টাইপিং

      রক্তের গ্রুপ জানা গুরুত্বপূর্ণ, তবে আরএইচ ফ্যাক্টর (+ বা -) আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যদি মা আরএইচ নেগেটিভ এবং বাবা আরএইচ পজিটিভ হন, তবে ভবিষ্যৎ সন্তান ইরাইথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস নামে প্রাণঘাতী অবস্থায় পড়তে পারে।

      ✅ গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে প্রতিরোধমূলক ইনজেকশন দিলে সন্তান সম্পূর্ণ সুস্থ থাকতে পারে।

    3. যৌনবাহিত রোগ শনাক্তকরণ

      বিয়ের আগে HIV, সিফিলিস, গনোরিয়া, হেপাটাইটিস B ও C—এসব রোগের পরীক্ষা করানো অত্যাবশ্যক। এগুলো দাম্পত্য জীবনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সন্তানেরও জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

      ➡️ আগেভাগে শনাক্ত ও চিকিৎসা নেওয়া মানে নিরাপদ, আত্মবিশ্বাসী জীবনযাপন।

    4. বন্ধ্যত্ব পরীক্ষা (Infertility Screening)

      বর্তমানে বন্ধ্যত্বের হার বেড়ে চলেছে。
      পুরুষের ক্ষেত্রে: সিমেন অ্যানালাইসিস (শুক্রাণুর সংখ্যা, গতি, গঠন)।
      মহিলার ক্ষেত্রে: পেলভিক আলট্রাসনোগ্রাফি, হরমোন প্রোফাইল (TSH, Prolactin, FSH, LH, Testosterone) ইত্যাদি।

      ➡️ এ পরীক্ষাগুলো ভবিষ্যৎ প্রজননক্ষমতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেয়।

    5. বংশগত রোগ স্ক্রিনিং

      নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ের আগে এটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। হিমোফিলিয়া, সিস্টিক ফাইব্রোসিস, মাংসপেশি দুর্বলতা, জেনেটিক মানসিক রোগ ইত্যাদি পরিবারে চলতে পারে। তাই বংশগত রোগ শনাক্তে জেনেটিক কাউন্সেলিং প্রয়োজন।

    6. ক্রনিক রোগ স্ক্রিনিং

      বিয়ের আগে জানা উচিত কেউ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েড, কিডনি বা লিভার সমস্যায় ভুগছেন কি না। এই তথ্য গোপন না করে দুজনেরই একে অপরকে জানানো উচিত—এটি ভবিষ্যতের পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তি তৈরি করে।

    7. মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন

      বিয়ে কোনো থেরাপি নয়। ডিপ্রেশন, বাইপোলার ডিসঅর্ডার, সিজোফ্রেনিয়া ইত্যাদি মানসিক রোগ বিয়ের আগে শনাক্ত ও চিকিৎসা করা প্রয়োজন।

      ➡️ মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে স্থিতিশীল অবস্থায় বিয়ে করা সর্বোত্তম।

    ✨ শেষ কথা

    স্বাস্থ্যবান মন ও শরীরই সুন্দর দাম্পত্য জীবনের ভিত। তাই বিয়ের আগে এই পরীক্ষাগুলো শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি ভবিষ্যতের পরিবারের প্রতি দায়িত্বের অংশ।

    লেখাটি KabboProBooks-এর “Pre-Marital Health Screening Guide” সিরিজের অংশ।
    উদ্দেশ্য: সচেতনতা, প্রতিরোধ, এবং একটি সুস্থ সমাজ গঠন।

    Post a Comment

    0 Comments

    Close Menu